ট্যাং কবিতা – গৌরাঙ্গ মোহান্ত

ঝ্যাং রো-জু  [৬৬৬-৭২০]

বসন্ত, নদী, পুষ্পগুচ্ছ, চাঁদ: রাত

 
বসন্তে নদী সমুদ্রতল অব্দি স্ফীত হয়,
জোয়ার-ভাঁটায় চাপতে ওঠে উজ্জ্বল চাঁদ।
অসীম আলো নিয়ে জল চমকায়।
বসন্ত নদীর ওপর কি থাকে না উজ্জ্বল চাঁদ?
পুষ্প সুরভিত মাঠের ভেতর দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে নদী,
জ্যোৎস্নায় চিকচিক করে ওঠে বরফ গুটিকার মতো।
কে পারে দেখতে জ্বলজ্বলে তুষার,
অথবা দ্বীপের শুভ্র বালুকাকে চাঁদের শুভ্র আভা থেকে পৃথক করতে!
আকাশ, নদী—একটা সম্পূর্ণ রঙ।
উজ্জ্বল, উজ্জ্বল—আকাশে নির্জন বৃত্ত।
মানুষের ওপর চাঁদ কখন প্রথম কিরণ ঢেলেছিল?
কে প্রথম নদীতীর থেকে দেখেছিল চাঁদ?
মানবকুল, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অনিঃশেষভাবে,
দেখে একই নদী, একই চাঁদ:
কেউ কি জানে কার জন্য সে করে প্রতীক্ষা?
আমরা কেবল দীর্ঘ নদীকে প্রবাহিত হতে দেখি।
এক গুচ্ছ মেঘ
ঝুলে থাকে আকাশে
আজ রাতে কোন বাড়ির পর্যটক জোয়ারে হবে ভাসমান?
কোন নিঃসঙ্গ রমণীর ছাদ থেকে চাঁদ কিরণ ঢালে?
ঘরের ওপর আলো খেলছে করুণ খেলা,
সরে যায় কারো ফেলে রাখা ড্রেসিং টেবিলের ওপর।
কাপড়-কাচার কাষ্ঠখণ্ড হতে সরাতে কিংবা
অন্ধের শরীরে গড়িয়ে পড়া থেকে একে রোধ করা অসম্ভব।
সবুজ মেপ্‌ল পুকুর
অনেক দূর! অসহনীয়!
চাঁদের আলোয় এখন আমরা একটির সাথে আরেকটির সাদৃশ¨
অনুসন্ধান করছি।
জ্যোৎস্নায় আমি যদি শুধু বয়ে যেতে পারতাম তোমার কাছে,
অথবা সেই মাছকে দিয়ে যদি বার্তা পাঠাতে পারতাম যে
জল থেকে লাফ দিয়ে
জলের গভীরে চলে যায়
অথবা বন্য রাজহংসীকে দিয়ে যে আকাশের উঁচুতে উড়ে
থেকে যায় উজ্জ্বলতায়।
গতরাতে আমি পুকুরের নিশ্চলতায়
পাপড়ি পতনের স্বপ্ন দেখেছি
হায়, তোমার প্রত্যাবর্তন ছাড়া কেটে গেল অর্ধেক বসন্ত।
বসন্ত! প্রায় নিঃশেষিত, নদীর জলে দ্রুতবেগে বাহিত।
উদীয়মান কুয়াশার সাগরে সংগোপিত, এখন অনুজ্জ্বল
চাঁদ নদী ও পুকুরের ওপারে পশ্চিমদিকে হেলে পড়ছে।
জেইশি হতে জিয়াং নদী পর্যন্ত রাস্তা সীমাহীন।
কি করে জ্যোৎস্নায় অনেকে আসবে ফিরে?
মনে হচ্ছে অস্তায়মান চাঁদ নদীতীরের পুষ্পপ্রসূ গাছকে
অশান্ত চিন্তা নিয়ে ঝাঁকা দিচ্ছে।
 

ওয়াং ওয়েই  [৭০১-৭৬১]
উপ-হাকিম ঝ্যাং-এর জন¨

 
বার্ধক্য কেবলই লালন করে নিস্তব্ধতা,
পার্থিব উৎকন্ঠা-শূন্য এক হৃদয়।
আমার স্থানীয় বনাঞ্চলে প্রত্যাবর্তন ভিন্ন
আমার জন্য রাখি নি কোনো দীর্ঘমেয়াদি কৌশল।
সেখানে আমার শার্শি মুক্ত পাইন বৃক্ষ সমীরণে,
জ্যোৎস্নাস্নাত পাহাড়ে আমি বাজাব জিথার।
সফলতা ও নিষ্ফলতার স্বরূপ নিয়ে তুমি তোলো প্রশ্ন:
গহীন নদী হতে ভেসে আসে কূলে ধীবরের গান।

লি বাই  [৭০১-৭৬২]
চাঁদের নিচে নিঃসঙ্গ সুরাপান

 
পুষ্পরাজির মাঝখানে এক জগ মদ:
একা করছি পান, সন্নিকটে নেই কোনো বন্ধু।
কাপ তুলে ধরে, ইঙ্গিতে ডাকি উজ্জ্বল চাঁদকে;
আমার ছায়াসহ আমরা তিনজনের পার্টি।
যদিও চাঁদ সুরাপানে অনভ্যস্ত
এবং ছায়া কেবল অনুকরণ করে আমার প্রতিটি পদক্ষেপ
মুহূর্তের জন্য তারা যা তাই ধরে নেব,
বসন্ত সমাগম, করি বসন্ত উপভোগ।
টালমাটাল ছায়া, বিলোড়িত চাঁদ
আমার নাচ ও গানে হয় সহগামী।
তথাপি নিয়ন্ত্রিত, আমরা একত্রে করি আমোদ;
পানোন্মত্ত, প্রত্যেকে নিই ছুটি।
এখন অশৃঙ্খলিত বন্ধুত্বের চির অবসান ঘটাতে
চল ছায়াপথ পেরিয়ে হই সম্মিলিত।

লি বাই  [৭০১-৭৬২]

বসন্ত দিনে স্বচ্ছ খাঁড়ির ওপর বেড়ানো

 
গভীর গিরিখাতের মুখে, আমি গাইছি গান।
সত্বর হবে পথের অবসান। মানুষজন যায় না উচ্চতর কোনো গন্তব্যে।
আমি খাড়া পাহাড় বেয়ে অসম্ভব উপত্যকায় উঠি,
আর খাঁড়ির উৎসের সন্ধানে প্রবাহের প্রতিকূলে চলি এগিয়ে।
মুক্ত শিলাখণ্ডের ওপর যেখানে নবজাত মেঘেরা ভেসে চলে,
সেখানে বুনো ফুলের উদ্দামতার ভেতর এসে পড়ে এক আগন্তুক।
দীর্ঘসময় ধরেই রয়েছি এখানে, অসমাপ্ত আমার আরোহণ,
অসংখ্য পাহাড়চূড়ার পশ্চিমে অস্তমিত হয় সূর্য।

ডু ফু  [৭১২-৭৭০]

পাথর পরিখা গ্রাম নিয়োগকর্তাগণ

দিনান্তে আমার আবাসনের ব্যবস্থা হলো পাথর পরিখা গ্রামে,
যেখানে কর্মকর্তাগণ রাতে মানুষজনকে জড়ো করতে লাগলেন।
আমার বৃদ্ধ আমন্ত্রক বাগানের পাঁচিল টপকিয়ে পালাল;
তার বয়স্ক গৃহিণী খুলে দিতে গেলেন দরজা।
রোষতপ্ত ছিল কর্মকর্তাগণের চিৎকার,
মর্মভেদী ছিল বৃদ্ধ মহিলার বিলাপ।
তারপর দেখলাম তিনি কথা বলতে উদ্যোগী হলেন:
“ইয়েচেঙের নিরাপত্তাবিধানে নিয়োজিত তিন ছেলের মধ্যে
একজন কেবল বাড়িতে পাঠিয়েছে চিঠি।
অন্য দুজন যুদ্ধে হয়েছে নিহত।
উত্তরজীবী যথাসাধ্য কৌশলে লাভ করেছে জীবন;
মৃতরা তাদের নিয়তিকে করেছে নিরুদ্ধ।
আমার দুগ্ধপোষ্য নাতি ছাড়া
এ সংসারে আর কোনো পুরুষ নেই।
সে জন্য পুত্রবধু এখনও আমাদের যায়নি ছেড়ে—
তাছাড়া, তার নেই কোনো শোভন পোশাক।
রাতের অন্ধকারে, আমাকে নিয়ে চলুন আপনাদের সাথে।
যদিও আমি দুর্বল বৃদ্ধা রমণী,
হেয়াঙে আমাকে কাজে নিয়োজিত রাখুন—
এখনও আমার রয়েছে সকালের খাবার তৈরি করার শক্তি।”
যদিও গভীরতর অন্ধকার গ্রাস করেছে তাদের কন্ঠধ্বনি,
মনে হলো আমি দূরবর্তী সাশ্রু দীর্ঘশ্বাসের শব্দ শুনলাম।
নিশান্তে আমি যখন যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি নেই,
পড়ে থাকেন শুধু বৃদ্ধ মানুষটি যার কাছ থেকে নিতে হয় বিদায়।
 

ডু ফু  [৭১২-৭৭০]

ভ্রমণে নিশীথ চিন্তাভাবনা

 
কূল জুড়ে হালকা নলখাগড়া, ক্ষীণবল বায়ু।
নিভৃত নিশীথে, উচ্চ-মাস্তলযুক্ত নৌকা।
নিঃসীম ভূতলের প্রান্ত রূপে নক্ষত্রপুঞ্জ করে অবতরণ।
চাঁদ ভেসে ওঠে, বহমান বিশাল নদীর ওপর।
আমার কাব্যসৃষ্টির জন্য সুখ্যাত হওয়া কিভাবে সম্ভব?
অফিসের বাইরে, বৃদ্ধ ও অসুস্থ—সামনে পেছনে, এখানে ওখানে
কার সাথে রয়েছে আমার সাযুজ্য, তবু?
নিঃসঙ্গ এক শঙ্খচিল, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যস্থলে সুস্থিত।
 

ডু ফু  [৭১২-৭৭০]

নতুন চাঁদ

 
ঊর্ধ্বগামী আলোর হালকা ফালি, চাপ কাত করে
রেখেছে তার ফেঁপে ওঠা অন্ধকার—নতুন চাঁদ
ওঠে এবং, প্রাচীন সীমান্ত গিরিপথ,
মেঘেদের পেছনের প্রান্তসীমা পেরিয়ে সবেমাত্র উদিত। রৌপ্য
পরিবর্তনহীন—স্টার নদী ঠান্ডায় উজ্জ্বল
শূন্য পাহাড়ের ভেতর দিয়ে প্রসারিত হয়। শুভ্র
শিশির ঢেকে রাখে উঠোন, সেখানে ক্রিস্যানথামাম
ফুল স্ফীত অন্ধকারের সাথে ঘনীভূত।
 

মং চিয়াও  [৭৫১-৮১৪]

গিরিখাতের বিষাদ
(দশটির সিরিজে তৃতীয় কবিতা)

 
গিরিখাত সমূহের ওপরে আকাশের এক সুতো:
গিরিখাতে জলপ্রপাত পাকিয়ে রাখে হাজার রজ্জু।
ঊর্ধ্বে, চূর্ণময় সূর্যালোক, চন্দ্রালোকের ঢাল:
নিচে, বন্য তরঙ্গের টানে লাগাম।
বহু শতাব্দী ধরে হিমায়িত ছায়ার গভীরতায়
একটির পর একটি মৃদু দীপ্তির অভিঘাত:
গিরিখাতসমূহের মাঝে আলোকরশ্মি দুপুরে পড়ে না থেমে;
সেখানে জলপ্রণালি বিপদসংকুল, বিরাজিত অধিক ক্ষুধাতুর থুথু।
বৃক্ষ শেকড়রাজিকে পচা শবাধারে আবদ্ধ রাখে
এবং মোচড়যুক্ত কঙ্কালসমষ্টি কাত হয়ে ঝুলে থাকে:
তুষার উড়ে এসে বসে বিধায় বৃক্ষশাখারা কাঁদে
শোকার্ত ছন্দঃস্পন্দ, দূরবর্তী ও স্পষ্ট।
এক প্রত্যাখ্যাত নির্বাসিত ব্যক্তির কুঞ্চিত নাড়িভুঁড়ি
যে জল ও আগুনে দগ্ধ ও আন্দোলিত হয় তার ভেতর
দিয়ে সে হেঁটে চলে।
একটা জীবনকাল মিহি সুতোর মতো,
রশির মাধ্যমে রাস্তা ওপরের দিকে প্রান্তসীমায় চলে যায়।
প্রেতাত্মার উদ্দেশ্যে যখন সে জলপ্রবাহে অশ্রুর অর্ঘ বর্ষণ করে
প্রেতাত্মারা একত্রিত হয়, তরঙ্গে খেলে যায় ঝিলিমিলি।
 

মং চিয়াও  [৭৫১-৮১৪]

অচিন্তপূব©

 
ধারাল তরবারি হতে দূরে থাকুন,
যাবেন না রূপসী রমণীর কাছে।
অতি নিকটবর্তী ধারাল তরবারি আপনার হাতে চোট বসাবে,
অতি নিকটবর্তী রমণীর সৌন্দর্য আপনার জীবনে চোট বসাবে।
দূরত্বের মধ্যে রাস্তার বিপদ নিহিত নেই,
চাকা ভেঙে যেতে দশ গজই যথেষ্ট।
প্রেমের বিষণ্নতা পৌনঃপুনিক প্রেম নিবেদনে নিহিত নেই,
একটি মাত্র সন্ধ্যা আত্মায় রেখে যেতে পারে ক্ষতচিহ্ন।

হান য়ু  [৭৬৮-৮২৪]

ফেজান্ট ও তীর

 
সমভূমির ওপর সম্পূর্ণ নিঃশব্দে জ্বলে আগুন:
বাজ-ভয়াকুল ফেজাণ্ট পুনরায় পেয়েছে নিরাপদ আশ্রয়।
ধীরে মাঠ হয়েছে অনায়ত, ঘনবদ্ধ হয়ে দর্শকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
বিক্রম দেখিয়ে সবাইকে আলোড়িত করার জন্য,
গুলিবর্ষণ বন্ধ রেখে, জেনারেল তার বাহনে বসে ধনুক আকর্ষণ করেন।
আতঙ্কে কেঁপে ওঠে ফেজাণ্ট, কিন্তু প্রবল তীর আঘাত হানে তাকে।
ঊর্ধ্বে সে উড়াল দেয়, প্রত্যক্ষকারীর অনেক অনেক ঊর্ধ্বে
যতক্ষণ না তার লাল পুচ্ছ এবং শরযষ্টির শ্বেতাংশ চাপাকারে নিম্নগামী হয়।
কর্মকর্তা-অভিনন্দিত জেনারেল পেছনে দ্রুত মাথা ঘুরিয়ে হাসেন।
তার ঘোটকের সম্মুখে পড়ে থাকে বিক্ষিপ্ত বহুবর্ণ পালকরাশি।

য়ুয়ান ঝেন  [৭৭৯-৮৩১]

বিষাদের প্রকাশ

 
বিগত বছরগুলোয় আমরা ঔদাস্যভরে মৃত্যু ও মৃত্যুবরণের অর্থ নিয়ে খোশগল্প করেছি:
তখন থেকে এটা ঘটেছে আমার চোখেরই সামনে।
আমি তোমার প্রায় সমস্ত পোশাক পরিচ্ছদ বিতরণ করেছি
তবে তোমার সেলাই সামগ্রী টেনে সরাতে পারছি না।
তোমার অতীত আসক্তির কথা মনে রেখে আমি তোমার প্রিয়তমা তরুণীদের প্রতি সদয় হয়েছি।
স্বপ্নে তোমার আত্মার সাথে আমি সম্মিলিত হয়েছি, এবং সূত্রকে গীতল হতে বলেছি।
নিশ্চিতভাবে জানি এ দুঃখ সবার সঙ্গী।
কিন্তু নিঃস্ব ও সাদাসিধে দম্পতিদের কাছে জীবন বয়ে আনে বিষাদময়তা।

লি হো  [৭৯০-৮১৬]

ম্যাজিক তন্ত্রীর জন্য শিল্পকর্ম
(একজন ডাকিনী অকল্যাণকর প্রাণীদের বিতাড়িত করছে)

 
পশ্চিম পাহাড়ে সূর্য অস্ত যায়, পূর্ব পাহাড়ে ঘনায় অন্ধকার,
ঘূর্ণিঝড়ে উৎক্ষিপ্ত ঘোড়াগুলো পদদলিত করে মেঘপুঞ্জ।
বর্ণিল বীণা ও আটপৌরে বাঁশি থেকে ঝরে ক্ষীণ সুরমালা:
যখন সে শরৎ ধুলোয় পা ফেলে খসখস করে ওঠে তার বুটিদার ঘাগরা।
বাতাস যখন ছুঁয়ে যায় দারুচিনি পাতা এবং ঝরে পড়ে একটি দারুচিনি বীজ
নীল র‌্যাকুনের চোখ ঝরায় রক্ত আর শীতার্ত খেঁকশেয়াল যায় মরে।
স্বর্ণখচিত লেজসহ ড্রাগন অঙ্কিত প্রাচীন প্রাচীরগাত্রে
বৃষ্টির দেবতা শরৎ পুকুরে বেড়ায় ভেসে;
বৃক্ষের অপদেবতায় রূপান্তরিত শতবর্ষী পেঁচার বাসায়
যখন সবুজ অগ্নিশিখা উদ্গত হয় তখন শোনে সে হাসির শব্দ।
 

লি হো  [৭৯০-৮১৬]

ম্যাজিক তন্ত্রী

 
ডাকিনী অর্ঘ্য নিবেদন করে, মেঘপুঞ্জ পূর্ণ করে আকাশ,
সবুজ পাথুরে মালসার জ্বলন্ত কয়লায় ধুনোর ধোঁয়া ধুকধুক করে।
সমুদ্র দেবতা ও পর্বত পরী তাদের আসন গ্রহণ করেন,
গর্জমান ঘূর্ণিঝড়ে খসখস করে মানত-করা কাগজ।
তার প্যাশন-কাঠের রত্নখচিত বীণায় সোনার পাতের ফিনিক্স নৃত্য করে
প্রত্যেক অস্পষ্ট উক্তির দিকে ভ্রæকুঞ্চিত করে সে একবার তন্ত্রীতে ঘা দেয়।
তার থালা ও পেয়ালার স্বাদ গ্রহণের জন্য সে নক্ষত্রকে ডাকাডাকি করে এবং পিশাচকে করে আহ্বান:
যখন পর্বত অপদেবতারা খাদ্য গ্রহণ করেন, মানুষ শিউরে ওঠে।
চুং-নানের পেছনে সূর্যের আভা পাহাড়ের খাদে নিচে ঝুলে থাকে:
এখানে দেবতাগণ কোথাও এবং কোথাও না এর মাঝামাঝি চিরকাল বিরাজ করেন।
দেবতাগণ বকাঝকা করেন, দেবতাগণ সন্তুষ্ট, প্রেতমাধ্যমের মুখের মাংসপেশির সংকোচনে তা অভিব্যক্ত।
—অতঃপর দেবতাগণ অসংখ্য রক্ষীর সাথে নীল পর্বতমালায় ফিরে যান।

পিউ এ সিয়ো  [আনুমানিক ৮৩৪-৮৮৩]

ওক ফল সংগ্রহকারিণী মহিলার জন্য বিলাপ

 
হেমন্তে পাকে ওক ফল,
কণ্টকিত ঝোপে আচ্ছাদিত পাহাড়ে পড়ে ঝরে।
পীতবর্ণ চুলের কুঁজো এক মহিলা
ওগুলো কুড়োবার জন্য মাড়ায় প্রভাতী হিম।
ঘণ্টা খানেকের শ্রমে তার মেলে একমুঠো কেবল,
দিনমানে ওক ফলে পূর্ণ এক ঝুড়ি।
সেদ্ধ করে বারবার রোদ্দুরে দেওয়া হলে,
খাদ্য হিসেবে ওগুলো ব্যবহৃত হবে সারা শীতকাল।
পাহাড়ের সম্মুখে রয়েছে ধানের রাঙা মঞ্জরিগুচ্ছ
ওদের সুগন্ধ নাসারন্ধ্রকে করে সর্বত্র জর্জরিত।
সযত্নে রাশীকৃত, দক্ষহাতে কাঁড়ানো,
প্রতিটি শাঁস পাথরের কণ্ঠভূষণের মতন,
সমস্তই অর্পণ করা হয় সরকারের কাছে,
ব্যক্তিগত ভাণ্ডারে থাকে না কিছুই।
কিভাবে যে এক দ্যান বা ততোধিক
কেবল পাঁচ দৌ হিশেবে হয় কলিত?
ধূর্ত কর্মকর্তারা উচ্চপদস্থগণের কঠোর অসম্মতির তোয়াক্কা করে না
লুব্ধরা বামাল লুকোতে হয় না উৎকণ্ঠিত।
লুকোনোর সময় ব্যক্তিগতভাবে যা কর্জ করা হয়
ফসল কাটার সময় তার অধিক ফিরিয়ে দিতেই হয় সরকারি শস্যগারে।
শীতকাল থেকে গ্রীষ্ম,
ওক ফল শূন্য জঠরকে করে বঞ্চনা।
এমনকি তিয়ান চেং-জি, যা জেনেছি যদি সত্য হয়,
অবগত ছিলেন যে রাজা হতে তাকে দয়াশীলতার ভান করতেই হবে।
ওক ফল সংগ্রহকারিণী এ মহিলাকে হঠাৎ দেখে,
বিস্মিত হবার কিছু নেই, এ আস্তিনগুলো অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে।

* এক দ্যান= এক হেক্টোলিটার
* পাঁচ দৌ= পাঁচ ডেকালিটার